Home http://server7.kproxy.com/servlet/redirect.srv/sruj/shhzdcy/s7iwolzo/p1/servlet/redirect.srv/sruj/sjfltfogkfhkubwkgaao/p1/ পৌরসভার সংক্ষিপ্ত বিবরণঃ

পৌরসভার সংক্ষিপ্ত বিবরণঃ

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলারঐতিহ্যবাহী  তিতাস  নদী  বিধৌত ,সুর সম্রাট ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁর জন্মভূমি নবীনগর উপজেলা সদরেরনবীনগর পূর্ব ইউনিয়ন, শ্রীরামপুর ইউনিয়ন,ইব্রাহীমপুর ইউনিয়নের আংশিক  অংশ নিয়ে গণ-প্রজাতন্ত্রী  বাংলাদেশসরকার সরকারী নীতিমালার আলোকে গণ-দাবীর প্রেক্ষিতে গেজেট প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে১৯৯৯খ্রি: সনের ১২ সেপ্টেম্বর  নবীনগরপৌরসভা গঠন করেন । নবীনগর  পৌরসভা  গঠনের পেছনে যে মানুষটির অবদান সবচেয়ে বেশিতিনি  হলেন তৎকালীন মাননীয় জাতীয় সংসদসদস্য এ্যাডভোকেট জনাব আব্দুল  লতিফপৌরসভা গঠনের পর যে  মানুষটি পৌরসভারসার্বিক উন্নয়নের জন্য  আপ্রাণ চেষ্টা  করে নবীনগর  পৌরসভাকে একটি  পর্যায়ে নিয়ে  আসেন  তিনি হলেন তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওপৌর প্রশাসক জনাব মো: শেফাউল করিম। তৎকালীন সময়ে ইউনিয়ন পরিষদ হতে নির্বাচিত মেম্বার জনাব মো: সিরাজুলইসলাম, মোঃ কামাল মিয়া, মো: শহিদ মিয়া,  জগদীশ চন্দ্র বর্মন, মো: জাহের মিয়া, মো: ছিদ্দিক মিয়া, মো: কবির হোসেন,মো: আবুল  কাউছার,যদুনাথ ঋষি,নারায়ন চন্দ্রকর্মকার,স্বপ্না ঘোষ,ছালেহা বেগম ও বাসনা রাণী পালকে সরকার নবীনগর পেরসভার সদস্য হিসেবে মনোনীত করেন। নবীনগর পৌরসভারসদস্য জনাব মো: আবুল কাউছার ৩০/০৮/২০০৭খ্রি: তারিখে  এবং  বাসনা রাণী  পাল  ০৪/০২/২০০৯খ্রি: তারিখে  মৃত্যুবরণ করেন। এছাড়া ছালেহা বেগম  তৎকালীনইউনিয়ন পরিষদ হতে নির্বাচিত হওয়ার পর শারিরীক ও মানসিক   সমস্যার কারণে ইউনিয়ন  পরিষদ  তথা পৌরসভার  কোন  কার্যক্রমে অংগ্রহণ  করতে পারেননি।

নবীনগর পৌরসভার সীমানা সংক্রান্তজটিলতার কারণে মহামান্য হাইকোর্ট রীট পিটিশন চলমান থাকায় এক যুগেরও বেশী সময় পৌর নির্বাচন করা সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে নবীনগর পৌরসভার প্রথম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

 

নবীনগর  পৌরসভা   গঠনের  পর  আর্থিক  সক্ষমতার বিবেচনায়   গণপ্রজাতন্ত্রী   বাংলাদেশ   সরকারের   স্থানীয়   সরকার,  পল্লী   উন্নয়ন   ও সমবায়   মন্ত্রণালয়ের    স্থানীয়  সরকার   বিভাগের   পৌর-৩ শাখার   ২৩-০৯-২০০৮খ্রি:  তারিখের  প্রজ্ঞাপন নং-পৌর-৩/চবি-গ-৩৬/৯৮/১১৮৩ মূলে    নবীনগর   পৌরসভাকে  গ’’  শ্রেণীর   পৌরসভা  হতে   খ’’   শ্রেণীর পৌরসভাতে   উন্নীত   করেন  । পরবর্তীতে  আর্থিক  সক্ষমতার বিবেচনায়   গণপ্রজাতন্ত্রী   বাংলাদেশ   সরকারের   স্থানীয়   সরকার  পল্লী   উন্নয়ন   ও সমবায়   মন্ত্রণালয়ের    স্থানীয়  সরকার   বিভাগের   পৌর-২ শাখার  ২৪-১২-০৯খ্রি:  তারিখের  প্রজ্ঞাপন  নং-পৌর-৩/চবি-গ-৩৬/৯৮/১৫৭৬  মূলে   নবীনগর   পৌরসভাকে   ‘‘খ’’ শ্রেণীর   পৌরসভা   হতে   ‘‘ক’’   শ্রেণীর  পৌরসভাতে  উন্নীত   করেন   ।

নবীনগর  পৌরসভা    ‘‘গ’’  শ্রেণীর   পৌরসভা  হতে   ‘‘খ’’   শ্রেণীর পৌরসভাতে   উন্নীত   করার  পেছনে   সাবেক  প্রশাসক জনাব মো: মলাই মিয়া বিশেষ অবদান রাখেন। নবীনগর  পৌরসভা     ‘‘খ’’ শ্রেণীর   পৌরসভা   হতে  ‘‘ক’’   শ্রেণীর  পৌরসভাতে  উন্নীত   করার   পেছনে  সাবেক  প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহীকর্মকর্তা জনাব মো: ফরিদুল ইসলাম মজুমদার বিশেষ অবদান রাখেন । 

নবীনগর পৌরসভা গঠনের পর উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে নবীনগর শহরের যানজটনিরসনকল্পে শহরের বাহিরে আলীয়াবাদ গ্রামে নতুন পৌর বাসস্ট্যান্ড নির্মানে বিশেষঅবদান রাখেন সাবেক প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার জনাব মো: শেফাউল করিম। এছাড়ানবীনগর পৌরসভার বর্তমান অস্থায়ী কার্যালয়টি নবীনগর পৌরসভার অনুকুলে স্থায়ীবন্দোবস্ত প্রদানের বিষয়ে যাদের অবদান চির স্মরনীয় হয়ে থাকবে তারা হলেন সাবেকপ্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার জনাব মো:ফরিদুল ইসলাম মজুমদার ও বর্তমান পৌরপ্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার  জনাবমো: সামছুল ইসলাম। নবীনগর শহর রক্ষাবাধেঁর উপর দিয়ে মাঝিকাড়া ব্রীজ হতে মনু বাবুরঘাট পর্যন্ত নবীনগর শহরের সৌন্দর্য বর্ধনকারী রাস্তাটি নির্মানের বিষয়ে যার অবদাননবীনগরের মানুষ বহুদিন মনে রাখবে তিনি হলেন  পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহীঅফিসার জনাব মো: সামছুল ইসলাম। ধারাবাহিকভাবে পৌরসভাবে সুদক্ষ নেতৃত্ব দেন জনাব সন্দ্বীপ কুমার সিংহ, প্রশাসক (ভারপ্রাপ্ত),  জনাব আ.ন.ম নাজিম উদ্দীন ও জনাব আবু শাহেদ চৌধুরী।

নবীনগর পৌরসভার মধ্যে বৃটিশ আমলের দেওয়ানী আদালত, নবীনগর সরকারী কলেজ, সহকারী পুলিশ সুপারের কার্যালয়সহ অন্যান্য সরকারী-বেসরকারী অফিসআদালত,স্কুল-কলেজ বিদ্যমান আছে । তবে নবীনগর পৌরসভায় ফায়ার সার্ভিস না থাকায় বিভিন্ন সময়ে আগুন লেগে বেশ কয়েকটি মার্কেটসহ লক্ষ লক্ষ টাকার ক্ষয়ক্ষতি সাধিতহয়েছে । নবীনগর পৌরসভা প্রথম শ্রেণীর পৌরসভা হলেও পৌরসভার নিজস্ব অফিস ভবন নেই।

নবীনগর সদর হতে উত্তর দিকে ভৈরবের সাথে যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম হলো  নৌপথ  ।নবীনগর সদর হতে পূর্ব দিকে জেলা সদরের সাথে যোগাযোগের মাধ্যমও  নৌপথ  । তবে স্থল পথে জেলা সদরের সাথে যোগাযোগের ক্ষেত্রে কুমিল্লার  কোম্পানিগঞ্জহয়ে সিলেট চট্টগ্রাম মহাসড়ক দিয়ে  প্রায়দীর্ঘ তিন ঘন্টা সময় ব্যয় করতে হয় । রাজধানী ঢাকার সাথে যোগাযোগের ক্ষেত্রে  কুমিল্লার কোম্পানিগঞ্জ  সড়ক ব্যবহার অথবা বাঞ্চারামপুর ফেরিঘাট-নারয়নগঞ্জ সড়ক ব্যবহার করতে হয় ।

 

নবীনগর পৌরসভার অবস্থান 

নবীনগর দ্বিতীয় বৃহত্তম থানা ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আয়তনের ও লোকসংখ্যার দিক হতে। থানা নামের উৎপত্তি সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু জানা যায়নি। অতীত কালে বর্তমান থানা এলাকা নদীর তলদেশে ছিল। আস্তে আস্তে নদীটি বালুতে ভরে যায় এবং একটি দ্বীপ বা চর  দেখা দেয়। প্রচুর সংখ্যক লোক এই চরে বশতি স্থাপন করে নাম দেওয়া হয় নবীন চর বা নবীন ঘর।ইহা সাধারন ভাবে বিশ্বাস করা হয় যে থানার নামটি নবীনগর হয়েছে। উপরোক্ত দুইটি শব্দ হতে নবীনগর মায়াবী সুরের রাজা ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ এর জন্ম স্থান। পরে এটি উপজেলায় রুপান্তরীত হয়। ১৯৯৯খ্রি: ১২ ই সেপ্টেম্বর  নবীনগর পৌরসভা ১৬.৯ বর্গ কিঃ মিঃ এলাকা নিয়ে ০৯ টি ওয়ার্ডের সমন্বয়ে প্রতিষ্ঠিত হয়। ২৩-০৯-২০০৮ইং তারিখে অত্র পৌরসভা ‘খ’-শ্রেণীতে উত্তীর্ণ হয়। ২৪-১২-২০০৯ইং তারিখে ‘খ’-শ্রেণী থেকে ‘ক’-শ্রেণীতে উত্তীর্ন হয়। নবীনগর পৌরসভা ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শহর হতে প্রায় ২০ কিঃ মিঃ পূর্ব দিকে। এর অবস্থান ২৩৪৫’ এবং ২৪০০  উত্তর-অক্ষাংশ এবং ৯০৫০’ হতে ৯১৫১’ পূর্ব-দ্রাঘিমাংশ ভৌগোলিক সীমা রেখার মধ্যে অবস্থিত। এ এলাকায় মে মাস থেকে বর্ষাকাল শুরু হয় এবং অক্টোবর পর্যন্ত সময়ের মধ্যে ৯০% বৃষ্টিপাত হয়। নভেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত এখানকার শীত কাল এবং এ সময়ে বৃষ্টি পাতের পরিমাণ কম-বেশী ১০% (সূত্র পানি উন্নয়ন বোর্ড)।